প্রায়শ্চিত্ত
“আজ এই যে আমার রাজকীয় উত্থান ,তাতে তোমার অবদান কতটুকু বলতে পারো বাবা ? করতে তো ওই মুটে গিরি ! খুশি হব এভাবে হুট করে তুমি এ বাড়িতে না এলে। তোমার সম্মান রাখতে পারবো না তার চেয়ে বরং এ অভিজাত পাড়া,এই সুবিশাল অট্টালিকা মুখো হয়ো না। কি হলো দাঁড়িয়ে আছো যে,ইশ ছিঃ ছিঃ পরণের চিটুনি ময়লা ধুতি টা দেখেছো একবার,আরে যেতে বললাম তো নাকি না গার্ড দিয়ে ঘাড় ধাক্কা দেব!
কৈ শুনছো রিম্পা একবার এদিকে এসো তো দুশোটা টাকা নিয়ে ,বিদায় করি !”
ভিখারী দের জন্য রাখা স্বামীর পুরানো ছেঁড়া দুটো জামা, রিম্পা ইশারায় দিতে বলে,ঠান্ডায় কাঁপছে কিনা!
“বৌমা, তোমার স্বামীকে ছোটবেলায় অনেক কষ্ট দিয়েছি , একটা গরম কাপড়ও জোটাতে পারিনি। মুটে গিরি করেছি ঠিক তবু তাতে আমার লজ্জা নেই,সেই সূত্রেই বাবুদের বাড়িতে পরিচয়ে ওরা খোকাকে পড়ার খরচা দিতো।”
হাঁফ নিয়ে একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন ক্ষয়িষ্ণু, ক্লান্ত শরীরটা নিয়ে বৃদ্ধ,
“আমি একটা খুব দরকারে আসতে বাধ্য হয়েছি।
গত সপ্তাহে হঠাৎ লটারিতে দশ লাখ টাকা জিতেছে আমার এই ফাটা কপাল।
তোমার শাশুড়ি মা বলল, “এই ঝুপড়ি ঘরে বেশ আছি,টাকায় বিড়ম্বনা বাড়বে,তাই খোকাকে দিয়ে এসো।”
“খুব হয়েছে,উদ্ধার করতে চলে এলেন মনে হচ্ছে!আপনার মহানুভব হৃদয় নিজেদের কাছেই রাখুন
,ওই নস্যি টাকায় আপনার ছেলের ঋণ বাড়িয়ে ঘাড়ে ওঠার ফন্দি নাই বা আর করলেন!”
“আহ রিম্পা, কেন মুখ লাগাচ্ছ ,ফালতু যত্তসব বকবক!লোকে দেখলে আমাদের প্রেস্টিজ বলে কিছু কি থাকবে! চলো বাবা ,তোমায় এগিয়ে দিই রাস্তায়।কিছু মনে করো না বাবা বৌমার কথায়, ও তো জানোই বরাবর অমন,মুখে মুখে তর্ক করে”।এই বলে এদিক ওদিক সামান্য দেখে নিয়ে ফিসফিস করে ঘাড় নিচু করে বলে,
“বাবা বলছিলাম কি , বড়ো মুখ করে যখন টাকাটা এনেছো ,আমায় দিয়েই যাও।আর একটা উপকার করো যদি বেশ ভালো হয় বাবা, আমার দোকানের ছেলেটি দুমাস ছুটি নিয়েছে ,একটু যদি নিজের মতো থেকে ফাই ফরমাস খেটে দিতে”।
না রে খোকা আমার বয়স হয়েছে,তাছাড়া আমি থাকলে তোর দোকানের,তোর মান ইজ্জতেরও একটা ব্যাপার আছে।এই প্রথম তোর মা কে আমি মিথ্যা বলবো ,টাকাটা বরং কোনো অনাথ আশ্রমেই দিয়ে দেবো ঠিক করলাম,অন্তত শেষ জীবনে একটা ভালো কাজ যদি করে যেতে পারি।”
0 Comments